Breaking News
Home / স্বাস্থ্যকথা / কিডনিতে পাথর নেই তো? সতর্ক হোন এই ১০ লক্ষণে

কিডনিতে পাথর নেই তো? সতর্ক হোন এই ১০ লক্ষণে

দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গই হলো কিডনি। আর এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে কোন রোগ বাসা বাঁধলে তা নীরবে শরীরের ক্ষতি করে। ধীরে ধীরে রোগ বাড়তে থাকে। লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া সত্ত্বেও রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়ে যায়। শেষমেশ যখন ধরা পড়ে, তখন চূড়ান্ত অবস্থা। কিছুই করার থাকে না। আবার কিডনি জটিল অবস্থায় না-পৌঁছলে, অনেক ক্ষেত্রেই আগাম লক্ষণও দেখা যায় না। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি।

এক্ষেত্রে জেনে নিন কিডনি রোগের ১০ লক্ষণ সম্পর্কে। কিডনিতে পাথর হলেও কিন্তু এমনটা হতে পারে। কাজেই কিডনির সুরক্ষায় লক্ষণগুলো জেনে রাখা জরুরী।

১. বারবার প্রসাব পাচ্ছে, কিন্তু প্রসাব পরিষ্কার হচ্ছে না?
হঠাত্‍‌ করে যদি এমন পরিবর্তন আসে, আগে থাকতেই সতর্ক হোন। ঘনঘন প্রসাব, প্রসাব করতে গিয়ে আটকে আটকে যাওয়া, এসবই কিডনির সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ।

২. ঘনঘন শ্বাস
কিডনির সমস্যা তৈরি হলেই অতিরিক্ত ফ্লুইড গিয়ে ফুসফুসে জমা হয়। যে কারণে শ্বাসের কষ্ট হয়। ঘনঘন শ্বাস পড়ে। একটু ছুটোছুটিতেই হাঁফ ধরে যায়।

৩. প্রসাবের সঙ্গে রক্ত বেরোচ্ছে কি না?
যদি প্রসাবের সঙ্গে রক্ত পড়ে, দেরি না-করে ডাক্তারের কাছে যান। কিডনির সমস্যার ক্ষেত্রে এটা বড় লক্ষণ।

৪. প্রসাবে ফেনা হচ্ছে?
এটা কিন্তু একদম স্বাভাবিক লক্ষণ নয়। কিডনির সমস্যার ক্ষেত্রে এমনটা হয়। শরীর থেকে প্রোটিন গিয়ে মূত্রে মেশে বলেই ফেনা তৈরি হয়।

৫. পা ফুলছে না তো?
টক্সিন, বর্জ্য ছাড়াও শরীর থেকে অতিরিক্ত ফ্লুইড বের করে দেওয়ার দায়িত্ব হল কিডনির। যখন কিডনি সেটা পারে না, ফ্লুইড-সহ সমস্তটাই শরীরে জমে থাকে। যে কারণে পা ফুলে যায়। মুখ ভার ভার লাগে।

৬. সামান্য পরিশ্রমেই খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন?
কিডনি থেকে নির্গত হয় এরিথ্রোপোয়েটিন হরমোন। এই হরমোন লোহিত রক্তকণিকাকে অক্সিজেন বহন করে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। কিডনি ঠিক ভাবে কাজ না-করলে, সেক্ষেত্রে এরিথ্রোপোয়েটিনের পরিমাণ কমে আসে। ফলে রক্তাল্পতার লক্ষণ দেখা যায়। শরীর দুর্বল লাগে। অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্তি চেপে ধরে।

৭. মাঝমধ্যে মাথা ঘুরছে?
মনঃসংযোগ করতে পারছেন না? অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার ক্ষেত্রেও এমন লক্ষণ দেখা যায়। তবে, কিডনির সমস্যার ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলো আরও প্রকট। মস্তিষ্কে কম অক্সিজেন যাওয়ার কারণেই হঠাত্‍‌ হঠাত্‍‌ মাথা ঘুরে যায়। মনঃসংযোগের ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটে।

৮. গরমেও ঠান্ডা বোধ করছেন?
চারপাশে গরম থাকা সত্ত্বেও আপনি যদি শীত অনুভব করেন এবং এটা যদি বেশ কিছুদিন ধরে চলতে থাকে, দেরি না-করে ডাক্তার দেখানো উচিত। নিশ্চিত ভাবেই এটা কিডনির সমস্যার একটা লক্ষণ।

৯. ফুসকুড়ি ও চুলকুনিতে নাজেহাল?
কিডনিতে গোলযোগ শুরু হলে, গায়ে ঘনঘন ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ বেরোয়। ত্বকে চুলকানির মতো লক্ষণ দেখা যায়। অ্যালার্জি বলে ধরে নিয়ে প্রায় সময়ই আমরা গুরুত্ব দিই না। কিন্তু, ভুললে চলবে না কিডনির কোনও অসুখ হলে বা কিডনি একদম কাজ না-করলেও এমনটা হতে পারে।

১০. বমি বমি ভাব আছে?
নানা কারণে গা গুলিয়ে উঠতে পারে। তবে কিডনির অসুখের ক্ষেত্রে এটা কিন্তু চূড়ান্ত লক্ষণ বলে ধরে নিতে পারেন। রক্তে অতিরিক্ত বর্জ্য পদার্থ মিশে গেলে, শরীর আর তখন নিতে পারে না। ফলে খাবার দেখলেই গা গুলিয়ে ওঠে। সবসময় বমি বমি ভাব থাকে। মাঝেমধ্যে বমিও হয়।

অতএব, সাবধান। যদি কয়েকটা লক্ষণ মিলে যায়, ভয় না-পেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাবধানের মার নেই।

আরও পড়ুনঃ

Loading...

Check Also

পেটের চর্বি নিয়ে দুশ্চিন্তা? ডায়েট ও ব্যায়ামের কথা ভাবছেন? দেখুন পেটের চর্বির সঠিক সামাধান

খাবার নিয়ন্ত্রণ করছেন, নিয়মিত হাঁটাহাঁটিও করছেন, ওজনও একটু একটু করে কমছে, কিন্তু পেটটা তো কিছুতেই …

error: Content is protected !!