Breaking News
Home / স্বাস্থ্যকথা / নারী স্বাস্থ্য / স্তন ক্যান্সার কি? কারন, লক্ষন, প্রতিকার ও চিকিৎসা !

স্তন ক্যান্সার কি? কারন, লক্ষন, প্রতিকার ও চিকিৎসা !

সারা বিশ্বে স্তন ক্যান্সার মহিলাদের ক্যান্সার জনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারন। সাধারণত ৫০ বছরের বেশী বয়সীদের এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে । শুধু মাত্র মহিলাদেরই স্তন ক্যান্সার হয় তা কিন্তু নয়, পুরুষেরও স্তন ক্যান্সার হাওয়ার ঝুকি রয়েছে । এ ক্যান্সারে আক্রান্তের হার প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আশার কথা হল, প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার সনাক্ত করা গেলে ও নিয়মিত সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ৯০% রোগীই ৫ বৎসর বা তার বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারেন।

স্তন ক্যান্সার কি?
স্তনের কিছু কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠে তখন স্তন ক্যান্সার হতে দেখা যায়। পুরুষের থেকে মহিলাদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি বেশি থাকে।

স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি যাদের বেশি:

  • পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
  • ৫০ বছর বয়সের বেশি মহিলাদের।
  • একটি স্তনে ক্যান্সার হলে অপরটিও আক্রান্ত হতে পারে।
  • মা, বোন অথবা মেয়ের স্তন ক্যান্সার থাকলে।
  • জীনগত (Genes) কারণে।
  • রশ্মির বিচ্ছুরণ থেকে (Radiation Exposure)।
  • অস্বাভাবিক মোটা হলে।
  • অল্প বয়সে মাসিক হলে।
  • বেশি বয়সে মনোপজ হলে (Menopause)।
  • বেশি বয়সে প্রথম বাচ্চা নিলে।
  • মহিলারা যারা হরমোন থেরাপী নেন।
  • মদ পান করলে ।

স্তন ক্যান্সারের সাধারন কারন:

স্তন ক্যান্সার হওয়ার নির্দিষ্ট কোন কারন না থাকলেও দৈনন্দিন জীবনে এর কিছু ধারনা রয়েছে।

১। ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী ব্যবহারঃ স্তনের আকার অনুযায়ী সঠিক মাপের ব্রা ব্যবহার করুন। কেননা নয়তো এটি আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিতে পারে অনেকখানি। স্তনের আকারের চেয়ে বড় মাপের বক্ষবন্ধনী স্তনের টিস্যুগুলোকে ঠিকমত সাপোর্ট দিতে পারে না আবার অতিরিক্ত ছোট বা টাইট ব্রা স্তনের তরলবাহী লসিকাগুলো কেটে ফেলতে পারে।
২। বক্ষবন্ধনী সারাক্ষণ পরে থাকাঃ সারাক্ষণ বক্ষবন্ধনী পরে থাকার কারণে ঘাম নির্গত হবার অসুবিধে, আর্দ্রতা জমে থাকা, সব মিলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ঘরে থাকার সময়টুকুতে বক্ষবন্ধনী ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন।
৩। লেবেল না দেখে ডিওডোরেন্ট কেনাঃ আজকাল কর্মজীবী নারী হোক বা শিক্ষার্থী সারাদিনের বাইরে থাকা আর সেই সাথে ঘামের দূর্গন্ধ এড়াতে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন প্রায় সবাইই! এতে নিজের ফ্রেশ ভাবটা যেমন বজায় থাকে তেমনি ঘামের গন্ধের কারণে অন্য কারো সামনেও বিব্রত হতে হয় না। কিন্তু এই ডিওডোরেন্ট কেনার সময় খেয়াল রাখুন কী কী উপাদান আছে এতে। এলুমিনাম বেসড উপাদান থাকলে তা স্তন ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ায়। ডিওডোরেন্ট যেহেতু আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করেন, তাই কোন কোম্পানির পণ্যটি ব্যবহার করবেন তা আগে একজন স্কিন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নিন।
৪। ন্যাপথলিনের ব্যবহারঃ আলমারির কাপড়চোপড় পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচাতে নেপথলিন তো আমরা ব্যবহার করেই থাকি। অনেকে আবার বাথরুমের দুর্গন্ধ এড়াতে বেসিনের সিঙ্কেও ফেলে রাখেন কয়েকটি। কিন্তু এটি পুরোটাই ক্ষতিকর কেমিকেল দিয়ে তৈরী, যা কেবল পোকামাকড়কে ১০০ মাইল দূরেই রাখে না, বরং আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুকিও বাড়ায় বহুগুণে। এর চেয়ে নিমপাতা শুকিয়ে কাগজে মুড়িয়ে রেখে দিন। একই উপকার পাবেন।

স্তন ক্যান্সার এর লক্ষণসমূহঃ

১। স্তন কিংবা বগলে চাকা বা দলা অনুভব করা। ঋতুচক্রের সময় অনেক মহিলার ক্ষেত্রে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দেয় এবং ঋতুচক্র পরবর্তী সময়ে তা চলেও যায়, এতে ভয়ের কিছু নেই তবে এই লক্ষণ স্থায়ী হলে তা পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। স্তন ক্যান্সার জনিত এ ধরনের চাকা বা দলায় সাধারনত কোন ব্যথা অনুভূত হয় না তবে এক ধরনের খোঁচা লাগে এমন অনুভূতি হতে পারে।
২। হাতের নিচে অর্থাৎ বগলের কোথাও নির্দিষ্ট কোন কারন ছাড়াই ফুলে ওঠা।
৩। স্তনের কোথাও লালচে ভাব কিংবা ব্যথা অনুভব করা।
৪। স্তনের কোন অংশ অস্বাভাবিক ভাবে দেবে যাওয়া।
৫। স্তনের আকার, রঙ, ত্বকের মসৃণতা কিংবা তাপমাত্রায় তারতম্য পরিলক্ষিত হওয়া। স্তনের ত্বকে লালচে আভা এবং কমলা লেবুর খোসার মত অমসৃণতা দেখা দিলে তা এডভান্সড ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্ষ নেয়া প্রয়োজন।
৬। স্তনবৃন্তে (Nipple) বিশেষ কিছু পরিবর্তন পরিলক্ষিত হওয়া, যেমন- স্তনবৃন্ত দেবে যাওয়া, চুলকানি, জ্বালা পোড়া, খুস্কি অথবা ক্ষত কিংবা ঘা এর উপস্থিতি।
৭। স্তনবৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক নিঃসরণ। এ ক্ষেত্রে স্তনবৃন্ত থেকে পরিস্কার, রক্ত যুক্ত কিংবা অন্ন কোন রঙের পাতলা অথবা আঠালো তরল নিঃসরণ হতে পারে।
৮। চামড়ার নিচে কোন ধরনের গুটি অনুভব করা।
৯। স্তনে এমন যেকোনো ধরনের পরিবর্তন যা দৃশ্যতই অস্বাভাবিক।

স্তন ক্যান্সারের প্রতিকার:

যেহেতু এ রোগটির নির্দিষ্ট কোনও কারন এখনো জানা যায়নি, তাই এই রোগ এড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো উপায় বলা যাবে না। তবে কিছু বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দেয়া যেতে পারে। যা বেশ ফলদায়ক।

  • ২০ বছর বয়স থেকে নিজে নিজে ব্রেস্ট পরীক্ষা করুন।
  • ৩০ বছর বয়সের মধ্যে ১ম সন্তান জন্ম দেয়ার চেষ্টা করুন।
  • সন্তানকে বুকের দুধ পান করান।
  • খাবার দাবারের ক্ষেত্রে চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন।
  • ফলমূল এবং সবজি বেশী খাওয়ার অভ্যাস করুন।
  • ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’ জাতীয় ফলমূল বেশী খাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • যেসব খাবারে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে, যেমন গাজর, মিষ্টি আলু এবং সবুজ শাক বেশি বেশি খাওয়ার অভ্যাস করুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • যাদের ওজন বেশী অবশ্যই তাদের ওজন কমাতে হবে।
  • মানুসিক চাপ থাকলে সাইকোথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।
  • ধর্মীয় অনুশীলন মেনে চলুন।
  • জীবনযাত্রায় নৈতিকতা এবং শৃংঙ্খলা বজায় রাখুন।
  • ধূমপান ও এ্যালকোহল পরিহার করুন।
  • রিস্ক ফ্যাক্টর থাকলে মেমোগ্রাফি করুন।
  • সন্দেহ থাকলে ক্যান্সার সার্জনের শরনাপন্ন হন।

আরও পড়ুনঃ

ব্রেস্ট বা স্তন ক্যান্সার এর চিকিৎসা:

স্তন ক্যান্সার,ক্যান্সারের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। বিভিন্ন ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের মধ্যে এর আনুপাতিক হার ১০% যা মহিলাদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকিস্বরূপ। স্তন ক্যান্সার আক্রমনে নারী জীবন ও কাজের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে যা তাদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময়। স্তন ক্যান্সার রোগীদের কিভাবে পর্যালোচনা করা উচিত তা রোগী এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।মডার্ণ ক্যান্সার হাসপাতাল গুয়াংজৌ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শনুযায়ী বায়োইম্যুনোথেরাপি স্তন ক্যান্সার রোগীদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি।
স্তন ক্যান্সারের জন্য সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি:
স্তন ক্যান্সারের জন্য সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অপারেশন, রেডিওথেরাপিএবং কেমোথেরাপি।অপারেশন প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার রোগীদের জন্য প্রধান পদ্ধতি। এর মাধ্যমে ক্যান্সার কোষগুলো ধবংস করে রোগী সুস্থ করা হয় । কিন্তু অপারেশনে কিছু নিজস্ব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত, টার্মিনাল স্তন ক্যান্সার বা দুর্বল রোগীদের জন্য ক্যান্সার কোষ এক্সসিসন করার সময়ে কিছু স্বাভাবিক টিস্যু অপসারণ করতে হয়। দ্বিতীয়ত, অপারেশনের সাহায্যে ক্ষুদ্র টিউমারগুলো সরানো যায় না এবং এদের পুনরাবৃত্তি ও জীবানু ছড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়ে যায়। সুতরাং, অপারেশনের পরে পুনরায় চেক আপ করা উচিত।
রেডিওথেরাপি স্তন ক্যান্সার চিকিত্সায় শুধুমাত্র প্রধান পদ্ধতি নয়, এটি স্থানীয় চিকিত্সার পদ্ধতির মধ্যে অন্যতম। অপারেশন সাথে তুলনা করলে রেডিওথেরাপি রোগীর শরীরে তেমন উপযোগী নয়।যদিও এর চিকিত্সামূলক ফলপ্রসূতা বায়োলজিক্যাল রে এর উপর নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে রেডিওথেরাপি এর মাধ্যমে টিউমার পুরোপুরি ধবংস করা যায় না।অপারেশন চিকিত্সার তুলনায় রেডিওথেরাপি কম কার্যকর।সাধারণত বায়োলজিক্যাল ইম্যুনোথেরাপি রেডিওথেরাপির সাথে প্রয়োগ করে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং জটিলতা কমানো হয় যার ফলে আংশিক ক্ষতি হতে পারে ।
রেডিওথেরাপির মধ্যে কেমোথেরাপি একটি পদ্ধতিগত চিকিত্সা যার শক্তিশালী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে।কেমোথেরাপি ফলে অস্থি মজ্জা এর হেমাটোপোইটিক সিস্টেমকে নষ্ট করতে পারে যার ফলে ডব্লিউ বি সি এবং প্লেটলেট কমে যায়। চিকিৎসাগতভাবে , বায়োলজিক্যাল ইম্যুনোথেরাপি হেমাটোপোইটিক সিস্টেমের ক্ষতি কমিয়ে কেমোথেরাপি এর অসুবিধা কমাতে পারে।
স্তন ক্যান্সার চিকিৎসায় বায়োলজিক্যাল ইম্যুনোথেরাপি:
বায়োলজিক্যাল ইম্যুনোথেরাপি টিউমার চিকিৎসায় শুধুমাত্র আধুনিক প্রযুক্তি নয়।এটি সার্জারি, রেডিওথেরাপি এবং কেমোথেরাপি তুলনায় অনেক পরিণত ও বহুল ব্যবহৃত প্রযুক্তি।বায়োলজিক্যাল ইম্যুনোথেরাপি টিউমার কোষকে সরাসরি ধবংস করে ,মেটাস্টিসিস, পুনরাবৃত্তি থেকে রোধ করতে পারে, এবং জীবনযাপনের মান উন্নত করে।বায়ো ইম্যুনোথেরাপি মাধ্যমে রোগীর রক্ত সংগ্রহ করে,ইমিউনোলজিক সেল (ডিসি-সিআইকে) তৈরি করে যা টিউমার কোষকে চিহ্নিত করে ধবংস করতে সাহায্য করে।তারপর এই সংগৃহীত রক্ত রোগীর শরীরে পুনরায় প্রবেশ করিয়ে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে টিউমার সেলগুলোকে নষ্ট করা হয়।
এদিকে, সমন্বয় চিকিৎসা বায়োইম্যুনোথেরাপি প্রযুক্তি , আধুনিক সার্জারি, কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপি ক্যান্সার চিকিত্সায় শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করে। যা শুধুমাত্র অবশিষ্ট ছোট ক্ষতকে সরায় না বরং এর পুনরাবৃত্তি এবং টিউমার স্থানান্তরণ হওয়া থেকে রোধ করে।এরফলে রোগীর রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়ে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে।
বর্তমান সময়ে বায়োলজিক্যাল বায়োইম্যুনোথেরাপি কোন আঘাত বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়া এবং ভাল ফলাফলের সঙ্গে টিউমার রোগীদের কাছে গ্রহনযোগ্য হয়েছে।যা শুধুমাত্র সবচেয়ে সক্রিয় এবং প্রতিশ্রুতিশীল থেরাপি বলে সমস্ত স্তন ক্যান্সার চিকিত্সা পদ্ধতির মধ্যে মনে করা হয় কিন্তু এর কার্যকারীতা হল জীবনের মানকে বৃদ্ধি করা।

দৈনন্দিন জীবনে একটুখানি সচেতনতা আমাদের স্তন ক্যান্সার এর হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। লজ্জা নয় বাচার তাগিদেই আপনাকে স্তন পরীক্ষা করতে হবে। স্তনের প্রতি যত্নবান হতে হবে।

Loading...

Check Also

জরায়ু মুখের ক্যান্সার সম্পর্কে জানুন এবং প্রতিরোধ করুণ

বাল্য বিবাহ হওয়া মেয়েদের এই রোগ হবার সম্ভাবনা বেশী। অল্পবয়সেই যারা যৌনাচারে অভ্যস্ত হয়ে থাকে …

error: Content is protected !!